এ বিস্ফোরণে ভারতীয় আধিপত্যবাদের প্রতিভূ এজেন্ট শেখ হাসিনার প্রাণ রক্ষা করে ভারতে ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হলেও তাদের রাজনৈতিক বন্দোবস্ত চিরতরে ধ্বংসের ঝুঁকির মুখে পড়ে যায়। শেখ হাসিনার পদাঙ্ক অনুসরণে দেশ থেকে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীও ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে গিয়েছে। ভারতীয় সেনাপ্রধানের এক বিবৃতিতে জানা যায়, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের বিশেষ মুহূর্তগুলোতে তারা বাংলাদেশের সেনা সদর দফতরের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলেছিল। শেখ হাসিনাকে ভারতে পাঠানো এবং হাসিনার ৬ শতাধিক দোসরকে বিশেষ নিরাপত্তায় সেনা সদরে আশ্রয় দিয়ে পালিয়ে যেতে সহায়তার পেছনেও কি ভারতের বিশেষ ভূমিকা ছিল? যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ কিংবা সরকারি ব্যাখ্যা না থাকায় এ বিষয়ে স্পেকুলেশন, অপতথ্য ও গুজব ছড়ানো সহজ। তবে ইতিমধ্যে বেরিয়ে আসা নানা রকম তথ্য-প্রমাণাদির আলোকে চিন্তাশীল সাধারণ মানুষও এ বিষয়ে একটি সাধারণ ধারণা বা সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সক্ষম হতে পারে। যারা গত ১৬ বছর ধরে দেশে বল্গাহীন দুর্নীতি, লুটপাট, দখলবাজি করে লাখ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে, যারা বাংলাদেশকে ভারতের একটি করদ রাজ্যে পরিনত করে ভারতীয়দের শত শত কোটি ডলার রেমিটেন্স আয়ের উর্বর ক্ষেত্রে পরিনত করার সুযোগ দিয়েছিল, যাদের বিপুল বিত্ত-বৈভবের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ভারতে পাচার করার সুযোগ ও সম্ভাবনা আছে, তাদেরকে আশ্রয় দিয়ে ভারত সরকার তার আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক এজেন্ডা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করতেই পারে। ভারতীয় ডিপস্টেটের সে চেষ্টা যে ভুল ও আত্মঘাতী, তারা কি সেটা ইতিমধ্যে বুঝতে পেরেছে? ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকেই ভারতের শাসকদলের নেতারা, মোদির সমর্থক গোদি মিডিয়া এবং প্রপাগান্ডা চক্র বাংলাদেশ নিয়ে যেসব গুজব, ডিসইনফরমেশন এবং তথ্য সন্ত্রাস চালিয়েছে, তার কোনোটিই বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে কিংবা বিশ্বজনমতকে বিভ্রান্ত করতে পারেনি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা, রাজনৈতিক দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাঁধানো, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনকে ব্যর্থ প্রমাণের অপচেষ্টা, জনজীবন দুর্বিষহ এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত এখনো চলছে।

জুলাই মাসে শুরু হওয়া ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমনে শেখ হাসিনার কঠোর-নিষ্ঠুরতম নির্দেশনায় হাজার হাজার মানুষকে হতাহত করে অগুণতি লাশের সারি রাজপথে ফেলে রেখে, দলের নেতাকর্মীদের প্রতি কোনো নির্দেশনা না দিয়েই আগস্টের ৫ তারিখ শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার ১০-১২ দিনের মধ্যেই তিরিশ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম ভয়াবহ বন্যার সম্মুখীন হয় বৃহত্তর নোয়াখালি ও কুমিল্লা অঞ্চল। ত্রিপুরায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছিল, এ সুযোগে বাংলাদেশকে না জানিয়েই ডুম্বুর বাঁধের সবগুলো স্লুইস গেট খুলে দিয়ে এ বন্যা সৃষ্টি করা হয়। সে সময় ফেনী-নোয়াখালি-কুমিল্লার বানভাসী মানুষের উদ্ধার ও মানবিক ত্রাণ সহায়তা নিয়ে দেশের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়লেও ভারতীয় গোদি মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় কিছু ভারতীয়দের বেশ উল্লসিত হতে দেখা গেছে। পানি ছেড়ে দিয়ে ভারতবিদ্বেষী বাংলাদেশিদের শায়েস্তা করার ষড়যন্ত্র নিয়ে তাদের যেন গর্বের শেষ নেই! সেই দুর্যোগ মোকাবেলা করে দাঁড়ানোর আগেই শুভেন্দু-ময়ুখ রঞ্জনদের নানা হুমকি-ধামকি, অস্ফালন ও উস্কানিতে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। উগ্র হিন্দুত্ব জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করতে গিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা রেস্ট্রিকশন, রফতানি নিষেধাজ্ঞা জারির মত সিদ্ধান্তগুলো বাংলাদেশকে কাবু করতে না পারলেও উপরন্তু নিজেরাই কাবু হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশি রোগী ও পর্যটক নির্ভর ভারতীয় হোটেল, মার্কেট, হাসপাতালগুলো এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। অন্যদিকে, ভারত সীমান্ত দিয়ে কৃষিপণ্য না আসলেও বাংলাদেশে আলু, পেঁয়াজ, আদা-রসুন কিংবা চাল-ডালের কোনো সংকট দেখা দেয়নি। এসব পণ্যের মূল্য বিগত বছরগুলোর চেয়ে সুলভ ও স্থিতিশীল রয়েছে। এ থেকে প্রমাণিত হয়েছে, বাংলাদেশে এসব নিত্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির পেছনে ভারতীয়দের সিন্ডিকেটেড কারসাজির ভূমিকাই ছিল মূখ্য। বাংলাদেশে কোনো সংকট না থাকলেও সে দেশের সরকার হঠাৎ করেই শুল্ক বাড়িয়ে কিংবা সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে সীমান্ত বাণিজ্যের সরবরাহ লাইনে এক ধরণের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে আড়তদার-মুৎসুদ্দিদের দিয়ে দাম বাড়িয়ে রাতারাতি বাড়তি শত শত কোটি টাকার মুনাফা লুটে নেয়ার কারসাজির নিয়ন্ত্রণ ছিল মারোয়ারি বেপারিদের হাতে। চাহিদা ও উৎপাদনের পরিসংখ্যান অনুসারে বাংলাদেশ বরাবরই আলু ও পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ। পচনশীল পণ্য হওয়া কিছু ঘাটতির সুযোগ নিয়ে ভারত থেকে আমদানির এলসি খোলার পেছনে মূলত ভারতীয় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করাই ছিল মূল লক্ষ্য। শুভেন্দুদের উস্কানিতে ভারতের সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ থাকায় ভারতীয় কৃষকদের রাজপথে আলু-পেঁয়াজ ঢেলে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। ওরা উগ্র বিজেপি নেতা ও গদি মিডিয়া আর. বাংলা টিভির সাংবাদিক ময়ুখ রঞ্জনের বিরুদ্ধেও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশে দেড় দশক ধরে ফ্যাসিবাদী দু:শাসন কায়েম করে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়াত্বের মুখে ফেলে নির্মম গণহত্যা চালিয়ে দিল্লীতে আশ্রিত হাসিনার উস্কানিমূলক বক্তব্য ও নেতাকর্মীদের প্রতি প্রতিহিংসামূলক নির্দেশনা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার ভারতীয় এজেন্ডারই অংশ। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেয়া ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়ার বিষয়ে ভারতের কাছে আপত্তি প্রকাশ করা হলেও ভারত তা ভ্রুক্ষেপ করেনি। ভারতের সাথে বাংলাদেশের বন্দি প্রত্যাপর্ণ চুক্তি রয়েছে। সে চুক্তি অনুসারে ইতিপূর্বে উত্তর ভারতের কয়েকজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাকে আটক করে ভারতের হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের বিশেষ তদন্তে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণহত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনার বিচার নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের সাথে সমতাভিত্তিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথা বলে এসেছেন। কিন্তু ভারত দীর্ঘদিন ধরে চলা আধিপত্যবাদী নীতি অনুসরণের পথেই হাঁটতে চাইছে। হুমকি-ধামকি ভয়ভীতি ও ডিস্ট্যাবিলাইজেশন এজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্ন্তবর্তী সরকারকে বেকায়দায় ফেলে তাদেরকে পুরনো বন্দোবস্তে ফিরিয়ে নিতে চায়। ধারাবাহিকভাবে একেকটা চক্রান্ত মোকাবেলা করতে করতে অর্ন্তবর্তী সরকার প্রায় ৭ মাস পেরিয়ে এসেছে। ধসে পড়া অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলার দেশিÑবিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার আলোক সঞ্চার করতে সক্ষম হয়েছেন ড. ইউনূস। তিনি বলেছিলেন, আমরা বিশ্বের কাছে যাবো না, বিশ্বই আমাদের কাছে আসবে। বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক ফোরামে ড. ইউনূসকে ঘিরে বিশ্ব নেতাদের আগ্রহ, বাংলাদেশের সাথে নতুন বিনিয়োগ ও উন্নয়ন অংশীদারিত্বের প্রতিশ্রুতি এবং ইলন মাস্কের মত টেকজায়ান্ট বিনিয়োগকারির বাংলাদেশে ছুটে আসার মধ্যে যে বার্তা রয়েছে, তা বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ইঙ্গিত বহন করছে। ভারতীয় আধিপত্যবাদী নিয়ন্ত্রণমুক্ত বাংলাদেশ অদম্য। এর সম্ভাবনাকে দাবিয়ে রাখা আর সম্ভব নয়। প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের বিশ্বজনীন ব্যক্তিত্ব, মর্যাদা, গ্রহণযোগ্যতা ও প্রজ্ঞার কাছে ভারতীয় ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হতে বাধ্য। ওরা জানে, ভারতের নিয়ন্ত্রণমুক্ত বাংলাদেশ একবার স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারলে আর কখনোই তাকে পদানত করা সম্ভব হবে না। গত সাড়ে পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ কার্যত ভারতের হাতে ছিল। জিয়াউর রহমানের সাড়ে ৩ বছরের শাসনকাল ছিল বিচ্ছিন্ন ব্যতিক্রম। তিনি এই সাড়ে তিন বছরেই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি, মধ্যপ্রাচ্যে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও গার্মেণ্ট রফতানির দিগন্ত উন্মোচনের মধ্য দিয়ে বহুমাত্রিক অর্থনীতি এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি তৈরী করতে সক্ষম হয়েছিলেন। দেশের রাজনৈতিক মুক্তিযুদ্ধ থেকে অর্থনৈতিক মুক্তির সোপানে তুলে দিতে জিয়ার সেই অবদান এদেশের মানুষকে ভুলিয়ে দেয়া সম্ভব নয়। গত ১৮ বছর ধরে ইতিহাস বিকৃতি, ঘৃণা, বিভক্তি ও নির্র্মূলের রাজনীতির মধ্য দিয়ে অনবরত সে চেষ্টাই করা হয়েছে। অস্থিতিশীলতা, নিরাপত্তাহীনতা ও রাজনৈতিক-অর্থনৈতিকভাবে দেশকে পরনির্ভরশীল করে রাখা অথবা ভারতের বশংবদ স্বৈবশাসক বসিয়ে আধিপত্যকে নিরঙ্কুশ করার ভারতীয় এজেন্ডার বিকল্প কোনো কিছু নিয়ে তারা হয়তো কখনো ভেবে দেখেনি। এ কারণে বাংলাদেশের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষের সমর্থনপুষ্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং বিশ্বনেতা ড.মুহাম্মদ ইউনূসের নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা হিন্দুত্ববাদীরা মেনে নিতে পারছে না। এ থেকে তাদের গণতান্ত্রিক রাজনীতির দেউলিয়াত্ব প্রকাশিত হচ্ছে। ইউরোপ-আমেরিকার সাথে তাল মিলিয়ে চীনের মত পরাশক্তিও যখন দ্বিপাক্ষিক স্বার্থে বাংলাদেশের অর্ন্তবর্তী সরকারের সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক ও উন্নয়ন অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে পারছে, সেখানে মোদির সরকার শেখ হাসিনাকে নিয়ে ঘৃন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে, যা তাদের জন্য বুমেরাং হতে বাধ্য।

বাংলাদেশে আত্মঘাতি রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে মানুষের বহুদলীয় গণতান্ত্রিক আকাঙ্খা, মানবাাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের চর্চা রুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। নাইন-ইলেভেন পরবর্তী ইসলামোফোবিয়া ও ওয়ার অন টেররিজমের এজেন্ডায় মৌলবাদ, জঙ্গিবাদের ন্যারেটিভ ব্যবহার করে এ দেশের ইসলামিক প্রতিরোধ শক্তিকে নির্মূল করতে হাজার হাজার আলেম-ওলামার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, গুম-খুন, আয়নাঘরে নির্যাতন এবং শাপলা চত্বর ম্যাসাকারের মত ঘটনা ঘটানো হয়েছে। মূলধারার পশ্চিমা কর্পোরেট গণমাধ্যম, ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী মিডিয়া এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর মালিকদের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া একযোগে আরোপিত ন্যারেটিভ প্রচার করেছে। তবে গত কয়েক বছরে রয়টার্স, ডয়েচে ভেলেসহ পশ্চিমা গণমাধ্যম ও আল জাজিরার মত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম শেখ হাসিনার স্বৈরতন্ত্রের মুখোশ খুলে দিলেও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্বৈরতন্ত্রের ন্যারেটিভ প্রচার ও প্রতিষ্ঠায় দোসরের ভূমিকা পালন করেছে। ভারতীয় ডিপস্টেট বাংলাদেশে ভুয়া নির্বাচন এবং স্বৈরতন্ত্রের বয়ান প্রতিষ্ঠায় কৈয়ের তেলে কৈ ভাজার মত বিপুল অংকের তহবিল খরচ করেছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি অজ্ঞাত প্রতিষ্ঠানকে ২৯ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রসঙ্গ তুলেছেন। কোন সে প্রতিষ্ঠান, তার হদিস এখনো পাওয়া যায়নি। তবে বিগত সময়ে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র’এর এজেন্ডা বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগের অনুগত বিভিন্ন সামাজিক-সাংষ্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিষ্ঠানের অনেক লম্ফ-ঝম্ফ দেখা গেছে। সিআরআই (সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন) নামের একটি থিঙ্কট্যাঙ্ক-এর কাজই ছিল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে তুলতে ভুয়া তথ্য-উপাত্ত তৈরী ও প্রচার করা। এর চেয়ারম্যান নাকি শেখ হাসিনার পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়, ভাইস চেয়ারম্যান সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য শেখ রেহানার ছেলে মেয়েসহ শেখ পরিবারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন। বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে যে তিনটি নির্বাচনকে অবাধ নিরপেক্ষ বলে বিবেচনা করা হয়, তার সবগুলোই (১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১) নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর মধ্যে ২০০১ সালের নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের মতলববাজ নেতারা কোনো প্রশ্ন তুলতে না পারলেও সিআরআই নামের গবেষণা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের কয়েক মাসের মধ্যেই ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনকে আর্ন্তজাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করতে রিগ্ড ইলেকশনের তকমা দিয়ে ইংরেজীতে তিনশ’ পৃষ্ঠার বই প্রকাশ করে বিলিয়েছে। এরপর বিগত চারটি ভুয়া নির্বাচন সম্পর্কে কথিত সিআরআইয়ের কোনো গবেষণাকর্ম দেখা যায়নি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সিআরআইয়ের খোঁজ নিতে গিয়ে তার কথিত গবেষক, কর্মকর্তা-কর্মচারি ও অফিসের হদিস না পাওয়া গেলেও তাদের কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অন্তত ৩৫ কোটি টাকার হদিস পাওয়া গেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথিত এনজিও’র ২৯ মিলিয়ন ডলারের বরাদ্দ সিআরআই কে দেয়া হয়েছিল কিনা তার তদন্ত হওয়া দরকার। এই সংস্থা মূলত আওয়ামী লীগের মাধ্যমে বাংলাদেশে ভারতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করত। সম্প্রতি ছাত্র-জনতার বুলডোজার মার্চে ধ্বংসপ্রাপ্ত ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে এর একটি অফিস ছিল বলে জানা যায়। এখন আর সিআরআই’র ভৌত চিহ্ন খুঁজে পাওয়া না গেলেও ভার্চুয়াল জগতে সিআরআই অর্ন্তবর্তী সরকার বিরোধী প্রপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে। ভুয়া খবর ও অপতথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে বিশ্বে ভারত এক নম্বর মাইক্রোসফটের করা এক সমীক্ষায় এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও অর্ন্তবর্তী সরকার নিয়ে ভারতের অপপ্রচার তাকে এক নতুন মাত্রায় উন্নীত করেছে। গতবছর বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডাব্লিউইএফ) গ্লোবাল রিস্ক রিপোর্ট ২০২৪-এ উল্লেখ করা হয়েছে, মিথ্যা তথ্য (ডিসইনফরমেশন), ভ্রান্ত তথ্য মিসইনফরমেশন ভারতে সংক্রমণজনিত রোগব্যাধি, অবৈধ অর্থনৈতিক কার্যক্রম বা সামাজিক-অর্থনৈতিক বৈষম্যের চেয়েও বেশি ঝুঁকির সৃষ্টি করছে। ওরা এখন বাংলাদেশকে টার্গেট করে মিসইনফরমেশন ক্যাম্পেইনের সাথে সাথে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের পাচারকৃত হাজার হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশে নিরাপত্তাহীনতা, অস্থিতিশীলতা এবং নৈরাজ্য সৃষ্টির পেছনে ব্যয় করছে। দেশের মানুষ তাদের এই কার্যক্রম সম্পর্কে সজাগ ও সচেতন রয়েছে। ভারতীয় কিংবা সরকারের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা স্বৈরাচারের দোসরদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়ে নতুন বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে এগিয়ে নিতে ছাত্র-জনতা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে সদা প্রস্তুত রয়েছে।

সূত্র , ইনকিলাব